এএফসি শিগগিরই একেবারে নতুন "এশিয়ান নেশনস লিগ" চালু করতে যাচ্ছে। এএফসির সাম্প্রতিক বৈঠকে ফাঁস হওয়া খসড়া পরিকল্পনা অনুযায়ী, ভবিষ্যতের এশিয়ান নেশনস লিগ সরাসরি বিশ্বকাপের এশীয় বাছাইপর্ব ও এশিয়ান কাপের বাছাইপর্বের দায়িত্ব নেবে। এই প্রস্তাব এএফসির সদস্য অ্যাসোসিয়েশনগুলোর সংখ্যাগরিষ্ঠ সমর্থন পেয়ে চূড়ান্তভাবে কার্যকর হলে, এমন সংস্কার এশীয় জাতীয় দলের প্রতিযোগিতা কাঠামোকে মূলে গিয়ে নতুন করে সাজাবে।

তিতান সাপ্তাহিকীর সাংবাদিক মা দেসিং এই সংস্কার চীন দলের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, তা বিশ্লেষণ করেছেন।
চীনা ফুটবলের জন্য এর প্রভাব ও আঘাত আসলে বেশ বড়, বিশেষ করে উন্নয়ন-অবনমন ব্যবস্থা চালু হওয়া। কিছুটা অর্থে এটি শুধু চীনা ফুটবলের বিশ্বকাপের লড়াইকে আরও কঠিন করবে না। বর্তমান চীনা পুরুষ জাতীয় দলের কাছে এখনকার সবচেয়ে জরুরি কাজ আদৌ বিশ্বকাপে যাওয়া নয়, বরং আগে যেকোনো উপায়ে "Tier 1", অর্থাৎ প্রথম স্তরের প্রতিযোগিতা কাঠামোতে স্থিতিশীল থাকা।
আঘাত এক: জাতীয় দলের আর প্রস্তুতি ম্যাচ বলার সুযোগ থাকবে না
"এশিয়ান নেশনস লিগ"-এর খসড়া নকশা প্রকাশের সঙ্গে সঙ্গে, বিশেষ করে এটি প্রতি দুই বছর অন্তর, পালাক্রমে এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব ও বিশ্বকাপের এশীয় বাছাইপর্বের সঙ্গে সরাসরি বাঁধা থাকবে। প্রায় প্রতি বছরই ফিফা নির্ধারিত আন্তর্জাতিক ম্যাচ উইন্ডোর নির্দিষ্ট ম্যাচের দিনগুলো পুরোপুরি ভরে যাবে। এর মানে, ২০৩০ সালে এশিয়ান নেশনস লিগ চালুর দিন থেকে চীনা পুরুষ জাতীয় দলের আন্তর্জাতিক ম্যাচ উইন্ডোতে আর "প্রস্তুতি ম্যাচ" বলে কিছু থাকবে না।
পুরুষ জাতীয় দল মাঠে নামলেই সেটা হবে আনুষ্ঠানিক ম্যাচ, হয় এশিয়ান কাপের বাছাইপর্ব, নয়তো বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব। প্রতিটি ম্যাচেই সবচেয়ে শক্তিশালী একাদশ পাঠিয়ে পুরো শক্তিতে জিততে হবে। প্রতিটি ম্যাচের ফল সরাসরি যুক্ত থাকবে শেষ পর্যন্ত বাছাই বা উত্তরণের সঙ্গে।
আঘাত দুই: উন্নয়ন-অবনমন ব্যবস্থা সরাসরি প্রাণঘাতী হতে পারে
আগে চীন দল বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ব্যর্থ হলেও পরের আসর মূলত আবার শুরু থেকে শুরু হতো, অবনমনের চিন্তা করতে হতো না। কিন্তু এশিয়ান নেশনস লিগের কাঠামো তৈরির পর আগের চক্রে দুর্বল ফল নতুন চক্রে কোন স্তরের প্রতিপক্ষের মুখোমুখি হতে হবে, এমনকি বড় টুর্নামেন্টের যোগ্যতার পথকেও সরাসরি প্রভাবিত করবে।
আরও নির্মম বিষয় হলো, ভবিষ্যতে বিশ্বকাপের এশীয় আসন শুধু প্রথম স্তরের (Tier 1) ১৮টি অংশগ্রহণকারী দলের সঙ্গে যুক্ত থাকবে। দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের প্রতিযোগিতায় থাকা দলের যোগ্যতাই থাকবে না, চমক দেওয়ার কথা তো দূরের।
আঘাত তিন: এই চক্রের ১৮ দলের পর্বই জীবন-মরণ ঠিক করবে
বর্তমান চীনা পুরুষ জাতীয় দলকে শুধু ২০৩০ সালের স্পেন-পর্তুগাল-মরক্কো বিশ্বকাপের লড়াইয়ে যেতে চেষ্টা করলেই হবে না। আরও গুরুত্বপূর্ণ ও আরও কেন্দ্রীয় কাজ হলো, চীন দলকে ২০৩০ সালে শুরু হওয়া প্রথম এশিয়ান নেশনস লিগের প্রথম স্তরে রাখতেই হবে, দ্বিতীয় স্তরে পড়ে যাওয়া চলবে না। এর প্রভাব চীনা ফুটবলে আরও দীর্ঘমেয়াদি হবে।
আঘাত চার: বিশ্বকাপের কঠিনতা আরও বাড়বে
এশিয়ান নেশনস লিগ এখন ঢাল বেয়ে ওঠা চীন দলের জন্য আসলে বেশ প্রতিকূল, বলা যায় গর্তও কম খোঁড়েনি। কারণ একবার দ্বিতীয় স্তরে পড়লে "তৃতীয় সারির চক্র" তৈরি হতে পারে। তাই বাস্তবতা বলে, স্তরে টিকে থাকাই বেশি বাস্তবসম্মত।
পরামর্শ: চীন দলকে কৌশল পুরোপুরি বদলাতে হবে
আসন্ন একেবারে নতুন "এশিয়ান নেশনস লিগ"-এর পরিস্থিতি অনুযায়ী, চীনা ফুটবলকে "টিকে থাকার সংকটবোধ" আরও জোরদার করতে হবে। কিশোর ভিত্তি আরও মজবুত করা ও ব্যবহারযোগ্য প্রতিভা গড়ে তোলার পাশাপাশি, বর্তমান চীনা পুরুষ জাতীয় দলের উন্নয়ন কৌশলের লক্ষ্য নতুন করে নির্ধারণ করা দরকার। আর সাধারণভাবে "বিশ্বকাপের লড়াই"-কে কৌশলগত লক্ষ্য ও কাজ হিসেবে রাখা চলবে না। বরং বিভিন্ন স্তরে ভাগ করে, ভিন্ন পরিস্থিতি অনুযায়ী পর্যায়ভিত্তিক লক্ষ্য ঠিক করতে হবে।
